দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিতরণ করা নাস্তা খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বুধবার দুপুরে এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো— রাকিবুল হাসান (তৃতীয় শ্রেণি), আতিকুর রহমান (তৃতীয় শ্রেণি), মরিয়ম খাতুন (পঞ্চম শ্রেণি), সোহান শেখ (তৃতীয় শ্রেণি), মারিয়া খাতুন (চতুর্থ শ্রেণি), আওলিয়া খাতুন (পঞ্চম শ্রেণি), তানিয়া খাতুন (তৃতীয় শ্রেণি) ও মরিয়ম খাতুন (পঞ্চম শ্রেণি)।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে দুপুরের নাস্তা হিসেবে পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করা হয়েছিল। পাউরুটিতে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ ছিল। খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণ পরই তাদের পেটব্যথা, বমি বমি ভাব ও শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বেলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে সকাল ও বিকেল— দুই শিফটে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সকাল শিফটের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ছুটি হয় দুপুর ১২টার দিকে এবং তাদের নাস্তা দেওয়া হয়। এরপর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়। নাস্তা বিতরণের পর ৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুদীপ সরকার বলেন, ‘পেটব্যথার অভিযোগ নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বিতরণ করা পাউরুটির নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছি। বিতরণ করা খাবারের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। সন্তানদের ভালোভাবে লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই। বিদ্যালয়ের খাবার খেয়ে যদি শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে আমরা কোথায় যাব? শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবার কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে বিতরণ করতে হবে।’
তারা আরও বলেন, ‘সরকারের এই উদ্যোগ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য। তাই খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা পাউরুটির উৎস ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে গাক এনজিও ও কার্নেল বেকারির সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছি। একই সঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাগারের রিপোর্ট ও তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এমএস/